Join our WikiEducator discussion group or Register now for free skills training.
Bangladesh/chapter working group/Todays News / আজকের সংবাদপত্রের কিছু সংবাদ
From WikiEducator
Today is 26th November 2009
আজ ২৬ নভেম্বর ২০০৯ বৃহস্পতিবার
'আসামিরা হত্যাকাণ্ডের নায়কদের দোসর'
শহীদুলল্গাহ শাহরিয়ার/সত্রং চাকমা, রাঙামাটি: বিডিআর বিদ্রোহের প্রথম বিচার কার্যক্রমের ৯ জন আসামি সম্পর্কে বাদী (প্রসিকিউটর) লে. কর্নেল হাবিবুল করিম আদালতকে বলেছেন, 'রাজনগর ব্যাটালিয়নের অভিযুক্ত এই ৯ জওয়ান পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নায়কদের দোসর।' বুধবার প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির করে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ ডিসেম্বর। বিডিআর আইন অনুযায়ী আসামিদের চিন্তাভাবনা করতে ২৭ কার্যদিবস সময় দিয়ে চার্জ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত ৯ বিডিআর সদস্যকে হাজির করার মধ্য দিয়ে বিশেষ আদালত-৪-এর কার্যক্রম বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হয়। আদালতের সভাপতি মেজর জেনারেল মোঃ মইনুল ইসলাম ডকে হাজির আসামিদের বিডিআর আইন অনুযায়ী তারা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন তা অবহিত করেন। তারা আইনজীবী বা 'ফ্রেন্ড অব অ্যাকিউজড' (আইনি সহায়তাকারী) নিযুক্ত করবেন কি-না জানতে চাওয়া হয়।
আসামিরা ভাবনাচিন্তা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আইন অনুযায়ী চিন্তাভাবনার জন্য প্রাপ্য সময় দিয়ে আদালত ২৭ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। সেদিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত আদালত কার্যক্রম মুলতবি করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের আদালত কার্যক্রম সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয়ে ২৫ মিনিটের ব্যবধানে মুলতবি হয়ে যায়।
বিডিআর আইন অনুযায়ী আসামিরা আদালতে নিজেরাই আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য রাখবেন। তবে তারা পরামর্শ গ্রহণের জন্য আইনজীবী কিংবা নিজ ইউনিটের কোনো কর্মকর্তাকে আইনি সহায়তাকারী নিয়োগ করতে পারেন। আইনজীবী কিংবা সহায়তাকারী আদালতে কথা বলতে পারবেন না। আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিয়ে কোন বিষয়ে কী বক্তব্য দেওয়া উচিত সে সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারবেন। এ আদালতের বিচার হবে 'সংক্ষিপ্ত বিচার' (সামারি ট্রায়াল) পদ্ধতিতে।
গতকাল আদালতে মূল কার্যক্রম ছিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অবহিত করা। আগের দিন জেলখানায় এ সম্পর্কিত কাগজপত্র তাদের হাতে পেঁৗছে দেওয়া হয়। প্রসিকিউটর লে. কর্নেল হাবিবুল করিম ৯ আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করেন।
এদিকে গতকাল দ্বিতীয় দিনেও রাঙামাটির তবলছড়িতে অবস্থিত সেক্টর সদর দফতরের বিশেষ আদালতে নিরাপত্তা ছিল জোরদার। পুলিশ, র্যাব, বিডিআর এবং সেনাসদস্যদের একাধিক টিম ছিল সতর্ক প্রহরায়। সরকার নিয়োজিত বিশেষ প্রসিকিউটর ও অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল পরে সমকালকে বলেন, তারা চাইছেন আসামিরা যাতে ন্যায়বিচার পান। এ কারণে আসামিদের সব ধরনের আইনি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। অভিযোগের কপি, আইন কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ তথা আত্মপক্ষ সমর্থনের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। বিডিআরের মধ্য থেকে তারা নিজেদের পক্ষে সাক্ষীও নিয়োগ করতে পারবেন। এটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই যে, অভিযুক্তদের সাজা দেওয়ার জন্যই বিশেষ আদালত গঠিত হয়েছে। পিলখানার ঘটনার পরে এই বিচারের জন্য কোনো আইন হয়নি। ১৯৭২ সালের বিডিআর আইনেই বিচার হচ্ছে।
অভিযোগগুলো : সিগন্যালম্যান আবদুর রহমান (নম্বর ৬৫৭৭১) : সিগন্যাল সেন্টারের দায়িত্ব পালনকালে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অচল করে অফিসারদের বাইরে যোগাযোগ প্রতিহত করেন। অন্যদের বিদ্রোহে মদদদান ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াসে ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়ান।
সিপাহি আবুল কালাম আজাদ (নম্বর ৬৭৩৪০) : পেরিমিটার পোস্ট থেকে অস্ত্র হাতে উদ্ধতভাবে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের ফলইনে হাজির হন। এখনও গুলি করিসনি বলে অন্য সদস্যদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন।
হাবিলদার মোহাম্মদ শামসুল হক (নম্বর ৪২৮৭৬) : ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর খান মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। ফলইনে উদ্ধত কথাবার্তা বলেন। উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টি ও সৈনিকদের বিদ্রোহে প্রভাবিত করেন।
হাবিলদার মোঃ সোহরাব হোসেন : কোত (অস্ত্রাগার) বন্ধ করার নির্দেশ পাওয়ার পরও তা খোলা রেখে অস্ত্র বিতরণের জন্য প্রস্তুত থাকেন, যা বিদ্রোহে সহায়তার শামিল।
লাইনে হাজির হওয়ার আদেশ পাওয়ার পরও তা অমান্য করে কোতের আশপাশে অবস্থান করেন, যাতে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ করা যায়।
হাবিলদার মোঃ শিবি্বর আহমেদ : ম্যাগাজিন খোলা রেখে গোলাবারুদ বিতরণের জন্য প্রস্তুত থাকেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করেন।
সিপাহি মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (নম্বর ৫৬৯১৫), সিপাহি মোহাম্মদ রাসেল কবির (নম্বর ৬৭১৩০), সিপাহি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন (নম্বর ৭৪৪১০), সিপাহি মোহাম্মদ সরওয়ার কামাল (নম্বর ৭২২২০)_ এই চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে একই ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করেন প্রসিকিউটর। তারা বান্ডুলিয়ার (বেল্টের সঙ্গে থাকা গোলাবারুদ রাখার বাক্স) পরা অবস্থায় ফলইনে হাজির হয়, যা অ্যাকশনধর্মী আচরণ ও বিদ্রোহের প্রস্তুতিমূলক মহড়া প্রদর্শনের শামিল।
১২ রাজনগর রাইফেল ব্যাটালিয়নের অভিযুক্ত ৯ সদস্যের মধ্যে পাঁচজনকে রাঙামাটি জেলা কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর চারজনকে ব্যাটালিয়নের নিরাপত্তা হেফাজত থেকে আদালতে আনা হয়।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নায়কদের দোসর : মামলার প্রসিকিউটর লে. কর্নেল হাবিবুল করিম আদালতকে বলেন, রাজনগর ব্যাটালিয়নে হত্যাকাণ্ডের মতো কোনো মর্মন্তুদ ঘটনা না ঘটলেও এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্যই সব ধরনের অপপ্রয়াস চালান অভিযুক্ত জওয়ানরা। সিগন্যালম্যান আবদুর রহমান ঘটনার দিন পিলখানার বিদ্রোহীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ রাখেন। এই ব্যাটালিয়নেরই ১২ সদস্য সেদিন পিলখানায় উপস্থিত থেকে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে অংশ নেন। যারা বর্তমানে ঢাকা ও কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন। রাজনগর ব্যাটালিয়নের অভিযুক্ত সদস্যরা ২৫ ফেব্রুয়ারি নিজেদের রূপ লুকিয়ে রাখতে পারলেও পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বরূপে আবির্ভূত হয়ে বিদ্রোহ সৃষ্টির সব ধরনের অপপ্রয়াস চালান। কিন্তু ব্যাটালিয়নের অন্য সদস্যদের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের কারণে তাদের মনোবাঞ্ছা সেদিন পূরণ হয়নি।
বিডিআরের পোশাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ : গতকাল অভিযুক্ত যে ৯ আসামিকে হাজির করা হয়, এর মধ্যে রাঙামাটি জেল থেকে আনা ৫ আসামি ছিলেন সাধারণ পোশাক পরা। অন্যদিকে ব্যাটালিয়ন ইউনিট থেকে আনা চার আসামি ছিলেন বিডিআরের পোশাক পরিহিত। আদালত বলেন, আইন অনুযায়ী বিচার চলাকালে সব আসামিকেই বিডিআরের পোশাক পরিয়ে আনতে হবে। কারণ এখনও তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সাময়িক বরখাস্তে থাকলেও ধরে নিতে হবে তারা এখনও বিডিআরে কর্মরত। অভিযুক্তরা এখনও জনগণের কষ্টার্জিত রাজস্ব থেকে বেতন নিচ্ছেন এবং আরাম-আয়েশে জীবনযাপন করছেন-_ প্রসিকিউটর এমন বক্তব্য প্রদান করলে এতে আপত্তি জানান আদালত। সভাপতি বলেন, তারা কীভাবে জীবনযাপন করছেন সেটা প্রসিকিউটরের দেখার বিষয় নয়। তিনি ডকে দাঁড়ানো আসামিদের একপর্যায়ে চেয়ার এনে বসার ব্যবস্থা করার জন্য প্রসিকিউটরকে আদেশ দেন। প্রসিকিউটর সেই আদেশ তামিল করেন। এর আগে আদালতের সভাপতি আসামিদের কাছে জানতে চান, আদালতের আদেশ এবং তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কাগজপত্র পেয়েছেন কি-না। আসামিরা তাদের হাতের একটি প্যাকেট দেখিয়ে আদালতকে বলেন, পেয়েছেন।
স্বজনদের কান্না : গতকাল বিচার শুরুর দিনে রাঙামাটি সেক্টর সদর দফতরে বিশেষ আদালত অঙ্গনে অভিযুক্ত জওয়ানদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন কয়েকজন স্বজন। এ দিন আদালতে এসেছিলেন অভিযুক্ত দুই আসামি সিগন্যালম্যান আবদুর রহমানের শ্বশুর জহিরুল ইসলাম। তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলবে। এসেছিলেন অপর অভিযুক্ত সিপাহি শামসুল হকের ছোট ভাই জালাল উদ্দিন। তার বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার মজলিশপুর।
আদালতে তোলার আগেই তারা স্বজনদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবদুর রহমান ও জালাল উদ্দিন তাদের স্বজনদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, আইনি লড়াইয়ে শামিল হতে তারা আইনজীবী নিয়োগ দেবেন। জহিরুল ইসলাম বলেন, পিলখানায় বিদ্রোহ হলেও রাঙামাটিতে কোনো বিদ্রোহ হয়নি। তার জামাই তাকে বলেছেন, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বিকল করে রাখার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।
জালাল উদ্দিন বলেছেন, তার ভাই শামসুল হক সহজ-সরল, সৎ ও বিনয়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তিনি বিডিআরে দীর্ঘদিন চাকরি করতে গিয়ে সেই সততারই পরিচয় দেন।
দু'জনই আইনি লড়াইয়ে অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় চাকরিতে বহাল হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাদের দুই স্বজন। তবে তারা পিলখানার ওই বিদ্রোহকে জঘন্য উলেল্গখ করে এর বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
প্রেস ব্রিফিং : আদালতের কার্যক্রম শেষে ১২ রাজনগর রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল হাবিবুল করিম ব্রিফিং করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা একে অপরের সহযোগিতায় ২৬ ফ্রেরুয়ারি পিলখানার বিদ্রোহের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। আদালতে বিডিআরের প্রসিকিউটর সব আসামির বিরুদ্ধে যথেষ্ট সাক্ষ্য, তথ্য ও প্রমাণাদি রয়েছে বলে উলেল্গখ করেছেন। আদালত অভিযোগকারী ও প্রসিকিউটরের মন্তব্য শুনেছেন, গ্রেফতারকৃত আসামিদের চিন্তাভাবনা ও নিজ নিজ আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ নেওয়ার জন্য ২৭ দিন সময় দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য পরবর্তী কার্যদিবসে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।
-সমকাল

সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
শতকোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে পুলিশের আড়িপাতার অবকাঠামো
সমীর কুমার দে/সজল জাহিদ: মোবাইল বা ল্যান্ডফোনে যে যে কথাই বলুক না কেন, তার পুরোটা ধারণ করতে পারবে পুলিশ। বলা হচ্ছে, নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টি করার জন্যই পুলিশের হাতে এ প্রযুক্তি দেওয়া হবে। খুব তাড়াতাড়ি পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন ন্যাশনাল মনিটরিং সেন্টারের (এনএমসি) কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। সরকারের এ উদ্যোগকে অনেকে সাধুবাদ জানালেও এর সঙ্গে শতকোটি টাকার ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চার বছর আগে থেকে অন্তত নব্বই কোটি টাকা ব্যয়ে আড়িপাতার বিশেষ অবকাঠামো তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার জন্য আড়িপাতার বিশেষ এই অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও পুলিশ আলাদা করে নিজেদের জন্য তৈরি করতে চায় বিকল্প আরেকটি এনএমসি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত আরেকটি এই ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন নেই। আশপাশের দেশ তো বটেই, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও একাধিক এনএমসি নেই। অন্যদিকে এই কাঠামো তৈরির জন্য মোবাইল ও ল্যান্ডফোন অপারেটর এবং টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। অপারেটরগুলো বলছে, যে কোনো সহযোগিতা করতে তারা রাজি। তবে তাদের দিক থেকে কোনো টাকা খরচ করা সম্ভব নয়।
ইতিমধ্যে একটি বিকল্প এনএমসি করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে আবেদন করেছে পুলিশ বিভাগ। বিটিআরসির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশকে এই অনুমোদন দেওয়া হলে এরপর র্যাব, এনএসআই বা আনসারও এনএমসি বসানোর অনুমতি চাইতে পারে। অবশ্য পুলিশের এআইজি (অর্থ) শাহাবুদ্দিন কোরেশি বলেন, অপরাধীরা এতটাই এগিয়ে গেছে যে প্রযুক্তিতে তাদের সঙ্গে আমরা আর পেরে উঠছি না। সে কারণেই বিকল্প আরেকটি এনএমসি তৈরি করা দরকার।' একটি এনএমসি থাকার পরও শতকোটি টাকা খরচ করে আরও একটি এনএমসি করার প্রয়োজন ব্যাখ্যা না করে তিনি বলেন, 'এ বিষয়গুলো খুবই স্পর্শকাতর। তাই এ নিয়ে বেশি কথা না বলাই যুক্তিযুক্ত।' অন্যদিকে এআইজি (টেলিকম) ওয়াইএম বেলালুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার কিছুই জানা নেই।
সাড়ে চার বছর আগে জোট সরকারের সময় আড়িপাতা আইন পাস করার পর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর তত্ত্বাবধানে এনএমসি গঠনের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সে এনএমসি গঠনের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই বিনিয়োগের পাশাপাশি জরুরি অবস্থার মধ্যে মোবাইল অপারেটরসহ অন্য সব অপারেটরকে দিয়ে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হয়। এই এনএমসির কাজ শেষ হলেই কে কোথায় কোন অপারেটরের ফোন দিয়ে কী কথা বলছে তার সবকিছুই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানতে পারবেন। এর মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা সহজ হবে।
এদিকে পুলিশের নতুন আরেকটি এনএমসি গঠন সম্পর্কে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের সভাপতি জাকিউল ইসলাম সমকালকে বলেন, এ খাতে নতুন বিনিয়োগ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে পুলিশের খরচেই যদি সব কাজ হয় তাহলে সহযোগিতা করতে তাদের কোনো সমস্যা নেই। একটি এনএমসি থাকার পর একই কাজে আরও একটি একই ধরনের অবকাঠামো তৈরিকে অপচয় হিসেবেই দেখছেন তারা।
-সমকাল
চামড়া ব্যবসায় ৩০০ কোটি টাকা বকেয়া
সমকাল প্রতিবেদক: চামড়া ব্যবসায় বকেয়ার ছড়াছড়ি। গত বছরের কোরবানির ঈদের সময় যারা চামড়া বিক্রি করেছেন তারা ওই টাকার একটি অংশ এখনও পাননি। ফলে ওই টাকা পেতে সারাদেশের চামড়া ব্যবসায়ীরা এখন ভিড় জমাচ্ছেন কাঁচা চামড়ার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার পোস্তায়। বিশেষ করে মধ্যম পর্যায়ে এসে চামড়া ব্যবসার বেশিরভাগই চলে বাকিতে। বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা স্থানীয় ফড়িয়াদের কাছ থেকে বাকিতে চামড়া কেনেন। তারাও বাকিতে বিক্রি করেন ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে। ঢাকার ব্যবসায়ীরা এসব চামড়ার একটি বড় অংশ বাকিতে বিক্রি করেন ট্যানারি শিল্পের মালিকদের কাছে। দীর্ঘ সময় ধরেই চলে আসছে এ বাকির ব্যবসা। এখন পর্যন্ত পোস্তার ব্যবসায়ীদের কাছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা পাবেন প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। সমপরিমাণ টাকা পোস্তার ব্যবসায়ীরা পাবেন ট্যানারি মালিকদের কাছে।গত বছর যেসব চামড়া তারা কিনেছেন তার একটি বড় অংশ এবার ঋণ নিয়ে পরিশোধ করবেন। এভাবেই চলে আসছে চামড়ার ব্যবসা। বকেয়া টাকা নিতে এখন পোস্তায় ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীরা। একইভাবে মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা ভিড় করছেন জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে।
রংপুর থেকে ইকবাল হোসেন জানান, রংপুর অঞ্চলের তিন শতাধিক চামড়া ব্যবসায়ী এবার টাকার অভাবে চাহিদামতো চামড়া ক্রয় করতে পারছেন না। ট্যানারিগুলোর কাছে অর্ধশত কোটি টাকা পাওনা থাকায় ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন।
রংপুর চামড়া মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় ছোট-বড় প্রায় ৩ শতাধিক চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন। এসব ব্যবসায়ী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বড় ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি বাবদ ৪৫ কোটিরও বেশি টাকা আটকে আছে। তারা এখনও ওই টাকা তুলতে পারছেন না। ইতিমধ্যে অনেক ট্যানারি দেউলিয়া হয়ে গেছে। এর মধ্যে রংপুরের প্রায় ১০০ ব্যবসায়ীর রয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। পাওনাদার ওইসব ব্যবসায়ীর মধ্যে কাশেম মুন্সির ২ কোটি, খায়ের মিয়া ও শওকত মিয়া বেঙ্গল ট্যানারির কাছে পাবেন প্রায় ২ কোটি টাকা। এছাড়া আবুল হোসেন প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ঢাকার এশিয়া ও রওশন ট্যানারির কাছে পাবেন। ইস্ট এশিয়ার কাছে আজগার মিয়া পাবেন ৩০ লাখের বেশি টাকা। শহীদ মিয়া ও আবদুর রহমান ঢাকার হাইড ট্যানারির কাছে পাবেন ৪৫ লাখ টাকা, মোশারফ হোসেন, মমিন মিয়া ও একরামুল কিষাণ ট্যানারির কাছে ৫২ লাখ, আফজাল মিয়া ভাই ভাই ট্যানারির কাছে ১৬ লাখ এবং ইব্রাহিম মোলল্গা বিএল ট্যানারির কাছে ১০ লাখ টাকা পাবেন। ওইসব বকেয়া টাকা গত ৪-৫ বছর থেকে পড়ে আছে ট্যানারি মালিকদের কাছে। ইতিমধ্যে বেঙ্গল, রওশন, ইস্ট এশিয়া, এনাম, সামিনা ট্যানারিসহ বেশ কয়েকটি ট্যানারি বন্ধ হয়ে গেছে। ট্যানারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন রংপুরের অনেক চামড়া ব্যবসায়ী। টাকার অভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন আলম মিয়া, শাহ আলম, ফয়েজ মিয়া, আবুল হোসেন, আফজাল হোসেন, মাহতাব হোসেন, মুনির হোসেনসহ আরও অনেকে।
রংপুর জেলা ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হারুণ-অর-রশিদ জানান, রংপুরের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট হচ্ছে জেলার তারাগঞ্জ, পলাশবাড়ী, বদরগঞ্জ, বড়বাড়ী, পীরগাছা, চৌধুরানী, পাওটানা এবং কাউনিয়া। তিনি জানান, বছরের মধ্যে মাত্র একবার কোরবানির ঈদে চামড়ার ব্যবসা হয়। তাই ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা পুঁজির কারণে এবার চামড়া কিনতে পারবেন না।
নাটোর থেকে নবীউর রহমান পিপলু জানান, প্রতি ঈদুল আজহার সময় নাটোরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার চামড়া কেনাবেচা হয়। কিন্তু এবার ঢাকার ট্যানারি মালিকরা নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া পরিশোধ না করায় বিপাকে পড়েছেন তারা। ঈদুল আজহার আগে বকেয়া পরিশোধ করার কথা থাকলেও ট্যানারি মালিকরা এখনও টাকা দেননি। নাটোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মকছেদ আলী জানান, চামড়া ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা ঈদের আগে ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নিয়ে চামড়া কিনে থাকেন। ট্যানারি থেকে টাকা দিলে ঋণ পরিশোধ করে দেন। কিন্তু এবার এখনও ট্যানারি থেকে টাকা পাওয়া যায়নি। সমিতি সূত্র জানায়, নাটোরে শতাধিক আড়তসহ প্রায় ৪০০ চামড়া ব্যবসায়ী ও ফড়িয়া রয়েছেন। ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের প্রায় একশ' কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
-সমকাল
গ্রীষ্মে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা
সমকাল প্রতিবেদক: প্রকট বিদ্যুৎ সমস্যা থেকে উত্তরণে মহাজোট সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে দেশে দ্রুত বেশ কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এসব কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে সময়মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি লাগে। এর ওপর আবার সরকার আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে সেচকাজের জন্য বাড়তি ১ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম সাংবাদিকদের বলেছেন, গ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাই শহরে সরবরাহে ঘাটতি বাড়বে। এ জন্য শহরের মানুষ কিছুটা কষ্ট পাবেন। গ্রামের কৃষক ভাইদের কথা বিবেচনা করে তাদের এ কষ্ট সহ্য করতেই হবে।
বোরো মৌসুমে সেচকাজের সময় কৃষকদের জন্য রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে সরকার।
উপদেষ্টা জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত এ পরিস্থিতি থাকবে। তবে এর মধ্যে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে লোডশেডিং কমে আসবে।
বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। গড়ে দৈনিক উৎপাদন সাড়ে তিন থেকে তিন হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। বোরো মৌসুমে এ চাহিদা আরও প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বাড়বে। পিডিবি গত বছর সর্বোচ্চ এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেডিং করেছিল। এ বছর লোডশেডিং সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ীই বিদ্যুতের চাহিদা প্রতি বছর ৫০০ মেগাওয়াট করে বাড়ছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই বাড়ছে ২৫০ মেগাওয়াট। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশে বিদ্যুতের চাহিদা ২২শ' মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট। সারাদেশে বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট। সেই হিসাবে গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমের দিনগুলোতে ঘাটতি গিয়ে দাঁড়াবে দৈনিক প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটে। এদিকে পিডিবি অভিযোগ করেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে ক্ষমতা তাদের আছে, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের কারণে তত পরিমাণ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। সবমিলিয়ে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সংকট যে প্রকট আকার ধারণ করবে, সে ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত।
উপদেষ্টা বলেন, এ জন্য শহর এলাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি হবে। গত বছরের মতো এ বছরেও আসন্ন বোরো মৌসুমে কৃষকদের জন্য রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। তবে দিনের বেলায় একান্ত প্রয়োজন না হলে পানির পাম্প না চালানোর আহ্বান থাকবে কৃষকদের প্রতি। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে সিএফএল বাল্ব সরবরাহ করা হলে সেখান থেকে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে।
গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামাল দিতে ভাড়ার ভিত্তিতে ৫৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আটটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আহ্বান করা দরপত্র এক সপ্তাহের মধ্যে মূল্যায়ন করার কথা বলেছিল। এসব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ভাড়াভিত্তিক আটটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য চুক্তি হওয়ার কথাও ছিল।
ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাইরেও সরকারি অর্থায়নে ৮৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১১ নভেম্বর ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ২৮টি দরপত্র জমা পড়ে।
আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু এখানে দরপত্র জমা দেওয়ার সময় এক দফা বাড়ানো হয়। এভাবে দরপত্র জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো, নির্ধারিত সময়ে দরপত্র মূল্যায়ন শেষে কাজ শুরু না হওয়ার কারণে আগামী দেড় বছরের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি খাতে ১ হাজার ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কার্যক্রম চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
পিডিবির দুটি আলাদা মূল্যায়ন কমিটি ২৫ দিন বৈঠকে বসেও আটটি কেন্দ্রের জন্য আটটি যোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করতে না পারায় সরকারের পরিকল্পনায় ছেদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, বিশেষ কয়েকটি দরপত্রদাতা কোম্পানির দরপত্র অযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় তারা বিভিন্নভাবে কার্যাদেশ স্থগিতসহ পুনঃদরপত্র আহ্বানের জন্য প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর অবস্থার মধ্যে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত দুটি মূল্যায়ন কমিটি আটটির মধ্যে ছয়টির দরপ্রস্তাব মূল্যায়ন শেষ করেছে। একটির জন্য আবার পুনঃদরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করা হয়েছে।
দরপত্র মূল্যায়নে দেরি হওয়ার কারণে তা বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতেও দেরি হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত ফাইল যাবে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে। সেখানে একবারে অনুমোদিত হলেই চুক্তি হবে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে আগামী ডিসেম্বর মাস লেগে যেতে পারে।
এরপর উদ্যোক্তাদের কাছে সময়মতো প্রতিটি কেন্দ্রের জায়গা হস্তান্তর ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এবং উদ্যোক্তারা যথাসময়ে কেন্দ্রগুলো স্থাপন করলে আগামী বছরের এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ ২৫০ মেগাওয়াট বিদু্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
-সমকাল
না'গঞ্জ বিএনপি কাউন্সিলে ধুন্ধুমার মারামারি'
আহত ২০ পাল্টাপাল্টি কমিটি
এমএ খান মিঠু, নারায়ণগঞ্জ: বিবদমান দু'গ্রুপের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাংচুরের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপির পাল্টাপাল্টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গঠিত হয়েছে জেলা বিএনপির দুটি পৃথক কমিটি। সংঘর্ষে বিদ্রোহী গ্রুপের শীর্ষ ৩ নেতাসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। সংঘর্ষ চলাকালে শহরের ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কের ওপর নির্মিত ৩টি তোরণ বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা ভাংচুর করলে ব্যস্ততম ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দু'গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থলে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। বিদ্রোহী গ্রুপের হামলার ভয়ে সম্মেলনের প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সম্মেলন শেষে বিকল্প পথে ঢাকা চলে যান। সংঘর্ষের কারণে সম্মেলন সংক্ষিপ্ত করে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে শেষ করে দেওয়া হয়।
অবশ্য ব্যারিস্টার মওদুদ সমকালকে বলেন, বিএনপি বড় দল হওয়ায় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাও বেশি। তাই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। একে বড় করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। সকাল পৌনে ১১টায় পৌর পাঠাগারে
আয়োজিত সম্মেলনে একতরফাভাবে তৈমূর আলম খন্দকারকে সভাপতি এবং রূপগঞ্জের কাজী মনিরকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ঠিক ওই সময় পৌর বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপের সভাপতি নুরুল ইসলাম সরদারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে পৌর পাঠাগারে যাওয়ার সময় ২নং রেল গেট এলাকায় পেঁৗছলে সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত জেলা বিএনপির আহ্বায়কের অনুসারী শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসানের নেতৃত্বে বিদ্রোহী গ্রুপের মিছিলে লাঠিসোটা ও ক্ষুদ্রাস্ত্র নিয়ে বাধা দেয়। ওই সময় দু'গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা নুরুল ইসলাম সরদার, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জুয়েল, খোকন, সোহাগসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে খোকনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে শরীরে পেছন দিকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। শহরের একটি ক্লিনিকে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল সকাল থেকেই জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমুর আলমের পক্ষে শহরের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান আহাম্মেদের নেতৃত্বে একঝাঁক তারকা সন্ত্রাসী তাদের অনুসারীদের নিয়ে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীদের প্রতিহত করতে শহরের ২নং রেলগেট সংলগ্ন ডায়মন্ড সিনেমা হলের সামনে অবস্থান নেয়। বিদ্রোহীদের প্রতিহত করতে সেখানে উপস্থিত ছিল পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি অহিদুল হক ছক্কু, বেলায়েত হোসেন লাভলু, নাজমুল হাসান, ডিব্বা হালিম, রানা মুজিব, আনোয়ারুল করিম টিটু, সজল, মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টি, মিয়া সেলিম, হাজি শাহিন ও শোভা প্রমুখ।
সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কাশেমের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা সংঘর্ষ থামানোর কোনো চেষ্টাই করেনি। এক পর্যায়ে বিদ্রোহী গ্রুপ বঙ্গবন্ধু সড়কের ওপর নির্মিত তোরণ ভাংচুর করলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে রাস্তার ওপর থেকে তোরণগুলো সরিয়ে নিলে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
পরে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের মিছিলে হামলার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের নিচে তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ সভা করে। সেই প্রতিবাদ সভা থেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয় এবং তাদের বাদ দিয়ে সম্মেলন করায় প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ডেলিগেটদের সম্মতিতে জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কমান্ডার সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হাই রাজুকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে পাল্টা আরেকটি জেলা কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা নুরুল ইসলাম সরদার সমকালকে জানান, তারা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হলেও তাদের সম্মেলনে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তারা সম্মেলনে উপস্থিত থাকলে একতরফাভাবে তৈমূর গং পকেট কমিটি গঠনে ব্যর্থ হবে জেনেই তাদের সম্মেলনস্থলে যেতে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সিদ্ধিরগঞ্জের আবদুল হাই জুয়েল, রহিমা শরীফ মায়া, আয়েশা সাত্তার প্রমুখ।
এদিকে গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমূর আলম জাতীয় পতাকা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনির দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। ওই সময় জাতীয় পতাকার অবমাননা করে দলীয় পতাকা জাতীয় পতাকার ওপর উত্তোলন করে রাখা হয়। বিষয়টি এই প্রতিবেদক উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কাশেমের দৃষ্টিগোচর করলে তিনি হেসে বলেন, এ ঘটনার ব্যাখ্যা সম্মেলনের আয়োজকরাই ভালো বলতে পারবেন। এর কিছুক্ষণ পর সম্মেলনস্থলে এসে পেঁৗছান সম্মেলনের প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুুদ আহমদ। দলের অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মতিন চৌধুরীর সম্মেলন উদ্বোধনের কথা থাকলেও তিনি আসেননি।
ব্যারিস্টার মওদুদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন এই সরকার চায় না বিএনপির জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হোক। তাই প্রতি পদে পদে সরকার বাধার সৃষ্টি করছে। সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেই আগামী ৮ ডিসেম্বর যথাসময়ে বিএনপির জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, দেশে নির্বাচিত সরকার আছে কিন্তু গণতন্ত্র নেই। সংবিধান থাকলেও আইনের শাসন নেই। দেশে একদলের শাসন চলছে। তাই মহাজোটের শরিকরাই সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।
ব্যারিস্টার মওদুদ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যাদের ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার যোগ্যতা নেই তাদের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার '৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে চাইলেও এখন আর তা সম্ভব নয়। সে চেষ্টা করা হলে বিএনপি দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাতে বাধা দেবে।
সম্মেলনে তৈমূর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাজী মনির, আবু জাফর, শাহ আলম, জানাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।
-সমকাল
আজ পবিত্র হজ
সমকাল ডেস্ক: আজ পবিত্র হজ। লাখ লাখ হাজির 'লাব্বায়েক! আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক!' ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান। মিনা থেকে ভোরে আরাফাতে হাজির হয়ে তারা মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। সশব্দে ঘোষণা করবেন, 'লাব্বায়েক, আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লা শারিকা লাকা লাব্বায়েক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি মাতা লাকা ওয়ালমুলক'। অর্থাৎ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সমগ্র সাম্রাজ্যও শুধুই তোমার।
হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার ভোরে। হাজিরা ফজরের নামাজের পর সৌদি আরবের মক্কা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে মিনায় গিয়ে হজের কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন।
এখন পর্যন্ত হজের আনুষ্ঠানিকতায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও হাজিদের মধ্যে এ বছর সোয়াইন ফ্লু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত চারজন হাজি সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ৬৭ জনকে আক্রান্ত সন্দেহে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. খালেদ মার্ঘলানি বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তারা এ বছর হাজিদের দেখাশোনার জন্য ২০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করেছেন। এছাড়া আজ সৌদি আরবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত আছে বলে ড. খালেদ জানান।
আজ আরাফাতের ময়দানে হাজিদের উদ্দেশে বয়ান ও খুতবা পাঠ করবেন প্রধান ইমাম। জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন হাজিরা। এরপর তারা আরাফাতের ময়দান থেকে মোজদালেফা যাবেন। মোজদালেফা উপত্যকায় খোলা আকাশের নিচে তারা জামাতে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে তারা মাঠেই অবস্থান করে প্রতীকীভাবে শয়তানকে আঘাতের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। আগামীকাল শুক্রবার ঈদুল আজহার দিন ফজরের নামাজ পড়ে তারা মিনায় ফিরবেন। সেখানে শয়তানকে পাথর ছোড়ার পর কোরবানি দেবেন। মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে ভাগ ভাগ করে মুসলি্লদের জামারায় (পাথর মারার স্থান) পাঠানো হবে। মিনা থেকে আগামীকালই হাজিরা মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। এরপর আবার মিনায় ফিরে দু'দিন অবস্থান করে হজের আনুষঙ্গিক কাজ সারবেন।
-সমকাল






